(৩) আছরের ছালাতের ওয়াক্ত

(৩) আছরের ছালাতের ওয়াক্ত :

আছরের ছালাত দেরী করে পড়ার যে প্রথা সমাজে চালু আছে তার ছহীহ কোন ভিত্তি নেই। এর পক্ষে যে সমস্ত বর্ণনা প্রচলিত আছে সেগুলো সবই যঈফ ও জাল।

(أ) عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ نَافِعٍ قَالَ دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَأذَّنَ مُؤَذّنُ بِالعَصْرِ قَالَ وَشَيْخٌ جَالِسٌ فَلَامَهُ وَقَالَ إنَّ أَبِىْ أَخْبَرَنِىْ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ  كاَنَ يَأْمُرُ بِتَأْخِيْرِ هَذِهِ الصَّلاَةِ.

(ক) আব্দুল ওয়াহেদ ইবনু রাফে‘ বলেন, আমি একদা মসজিদে প্রবেশ করলাম। তখন মুওয়াযযিন আছরের আযান দিল। রাবী বলেন, তখন এক বৃদ্ধ মসজিদে বসেছিলেন। তাই মুয়াযযিন তার নিকটে আসল। তখন তিনি বললেন, আমার আব্বা আমাকে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আছরের ছালাত দেরী করে পড়ার নির্দেশ দিতেন।[1]

তহক্বীক্ব : বর্ণনাটি যঈফ।[2] ইমাম দারাকুৎনী বলেন, এর সনদে আব্দুল্লাহ বিন রাফে‘ বিন খাদীজ বিন রাফে‘ নামে একজন রাবী আছে। সে নির্ভরযোগ্য নয়।[3] অন্যত্র তিনি বলেন, এই হাদীছের সনদ যঈফ। … রাফে‘ সহ অন্য কোন ছাহাবী থেকে এই হাদীছ ছহীহ হিসাবে প্রমাণিত হয়নি।[4]

(ب) عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ كَتَبَ إِلَى عُمَّالِهِ إِنَّ أَهَمَّ أَمْرِكُمْ عِنْدِى الصَّلاَةُ مَنْ حَفِظَهَا وَحَافَظَ عَلَيْهَا حَفِظَ دِيْنَهُ وَمَنْ ضَيَّعَهَا فَهُوَ لِمَا سِوَاهَا أَضْيَعُ ثُمَّ كَتَبَ أَنْ صَلُّوا الظُّهْرَ إِنْ كَانَ الْفَىْءُ ذِرَاعًا إِلَى أَنْ يَكُوْنَ ظِلُّ أَحَدِكُمْ مِثْلَهُ وَالْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ بَيْضَاءُ نَقِيَّةٌ قَدْرَ مَا يَسِيْرُ الرَّاكِبُ فَرْسَخَيْنِ أَوْ ثَلاَثَةً وَالْمَغْرِبَ إِذَا غَابَتِ الشَّمْسُ وَالْعِشَاءَ إِذَا غَابَ الشَّفَقُ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ فَمَنْ نَامَ فَلاَ نَامَتْ عَيْنُهُ فَمَنْ نَامَ فَلاَ نَامَتْ عَيْنُهُ فَمَنْ نَامَ فَلاَ نَامَتْ عَيْنُهُ وَالصُّبْحَ وَالنُّجُومُ بَادِيَةٌ مُشْتَبِكَةٌ.

(খ) ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি একদা প্রশাসকদের নিকট পত্র লিখলেন যে, আমার নিকট আপনাদের সমস্ত কাজের মধ্যে ছালাতই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। যে ব্যক্তি তার হেফাযত করে এবং যথাযথভাবে তার উপর অটল থাকে, সে তার দ্বীনকে রক্ষা করে। আর যে তাকে বিনষ্ট করে সে তা ব্যতীত অন্যগুলোকে আরো অধিক বিনষ্টকারী। অতঃপর তিনি লিখলেন, যোহর আদায় করবে যখন ছায়া এক হাত হবে, তোমাদের প্রত্যেকের ছায়া তার সমান হওয়া পর্যন্ত। আছর আদায় করবে যখন সূর্য উচ্চে পরিষ্কার সাদা অবস্থায় থাকবে, যাতে একজন ভ্রমণকারী ব্যক্তি সূর্য অদৃশ্য হবার পূর্বেই দুই বা তিন মাইল অতিক্রম করতে পারে। যখনই সূর্য ডুবে যাবে তখনই মাগরিব আদায় করবে। যখন লালিমা ডুবে যাবে তখন এশা আদায় করবে, রাত্রের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত। এর পূর্বে যে ঘুমাবে তার চক্ষু না ঘুমাক। এ কথা তিনি তিনবার লিখেছিলেন। আর ফজর আদায় করবে যখন তারকারাজি পরিষ্কার হয় এবং চমকে।[5] মূলতঃ উক্ত হাদীছে যোহর, আছর ও মাগরিবের ছালাতের সময়কে ছহীহ হাদীছের বিরোধী হিসাবে পেশ করা হয়েছে। বিশষ করে আছরের সময়। কারণ ছহীহ হাদীছে চার মাইলের কথা এসেছে।[6]

তাহক্বীক্ব : যঈফ। এর সনদ বিচ্ছিন্ন। কারণ নাফে‘ ওমর (রাঃ)-এর যুগ পাননি।[7]

(ج) عَنْ زِيَادِ بْنِ عَبْدِ اللهِ النَّخَعِىِّ قَالَ كُنَّا جُلُوْسًا مَعَ عَلِىٍّ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ فِى الْمَسْجِدِ الأَعْظَمِ وَالْكُوْفَةُ يَوْمَئِذٍ أَخْصَاصٌ فَجَاءَهُ الْمُؤَذِّنُ فَقَالَ الصَّلاَةُ يَا أَمِيْرَ الْمُؤْمِنِيْنَ لِلْعَصْرِ فَقَالَ اجْلِسْ فَجَلَسَ ثُمَّ عَادَ فَقَالَ ذَلِكَ فَقَالَ عَلِىٌّ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ هَذَا الْكَلْبُ يُعَلِّمُنَا بِالسُّنَّةِ فَقَامَ عَلِىٌّ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ فَصَلَّى بِنَا الْعَصْرَ ثُمَّ انْصَرَفْنَا فَرَجَعْنَا إِلَى الْمَكَانِ الَّذِى كُنَّا فِيهِ جُلُوسًا فَجَثَوْنَا لِلرُّكَبِ لِنُزُولِ الشَّمْسِ.

(গ) যিয়াদ বিন আব্দুল্লাহ নাখঈ বলেন, আমরা একদা আলী (রাঃ)-এর সাথে বড় মসজিদে বসেছিলাম। কূফাতে সে সময় অনেক কুঁড়ে ঘর ছিল। অতঃপর মুওয়াযযিন এসে বলল, হে আমীরুল মুমিনীন! আছরের ছালাত আদায় করতে হবে। তিনি বলেন, তুমি বস। তাই সে বসল। মুয়াযযিন পুনরায় ফিরে এসে একই কথা বলল। তখন আলী (রাঃ) বললেন, এই কুকুরটি আমাদেরকে সুন্নাত শিক্ষা দিতে চাচ্ছে! অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং আমাদেরকে নিয়ে আছরের ছালাত আদায় করলেন। তারপর ছালাত থেকে ফিরে ঐ স্থানে ফিরে আসলাম যেখানে আমরা বসেছিলাম। অতঃপর সূর্য ডুবে যাওয়ার কারণে আমরা সওয়ারীর উপর হাঁটু গেড়ে বসে গেলাম।[8]

তাহক্বীক্ব : সনদ যঈফ। হাকেম একে ছহীহ বলে উল্লেখ করলেও তা যঈফ।[9] ইমাম দারাকুৎনী এর ত্রুটি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, যিয়াদ বিন আব্দুল্লাহ নাখঈ অপরিচিত। আব্বাস বিন যুরাইহ ছাড়া অন্য কেউ তার থেকে হাদীছ বর্ণনা করেননি।[10] মূলতঃ আলী (রাঃ)-এর নামে উক্ত বর্ণনা পেশ করে আছরের ছালাত বিলম্ব করার প্রতি উৎসাহিত করা হয়।

(د) عَن اِبْنِ مَسْعُوْدٍ أَنَهُ كَانَ يُؤَخِّرُ الْعَصْرَ.

(ঘ) ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি আছরের ছালাত দেরী করে আদায় করতেন।[11]

তাহক্বীক্ব : বর্ণনাটি যঈফ। এর সনদে আবু ইসহাক্ব নামে ত্রুটিপূর্ণ রাবী আছে। সে আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ থেকে সঠিকভাবে হাদীছ বর্ণনা করেনি।[12]

(ح) عَنْ يَزِيْدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَلِىِّ بْنِ شَيْبَانَ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ جَدِّهِ عَلِىِّ بْنِ شَيْبَانَ قَالَ قَدِمْنَا عَلَى رَسُوْلِ اللهِ   الْمَدِيْنَةَ فَكَانَ يُؤَخِّرُ الْعَصْرَ مَا دَامَتِ الشَّمْسُ بَيْضَاءَ نَقِيَّةً.

(ঙ) ইয়াযীদ ইবনু আব্দুর রহমান তার পিতা থেকে দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আমরা মদ্বীনায় রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট গেলাম। তিনি সূর্য উজ্জ্বল ও পরিষ্কার থাকা পর্যন্ত আছরের ছালাত দেরী করতেন।[13]

তাহক্বীক্ব : হাদীছটি যঈফ। উক্ত হাদীছের সনদে মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযীদ আল-ইয়ামামী ও ইয়াযীদ ইবনু আব্দুর রহমান নামে দুইজন অপরিচিত রাবী আছে। ইমাম নববী বলেন, বাতিল হাদীছ।[14]

(و) قَالَ أَبُو عَمْرٍو يَعْنِى الأَوْزَاعِىَّ وَذَلِكَ أَنْ تَرَى مَا عَلَى الأَرْضِ مِنَ الشَّمْسِ صَفْرَاءَ.

(চ) আবু আমর বলেন, ঐ সময়টা হল, যখন সূর্যের আলো যমীনে হলুদ আকারে পড়বে।[15]

তাহক্বীক্ব : বর্ণনাটি যঈফ। ওয়ালীদ বিন মুসলিম নামে একজন মুদাল্লিস রাবী আছে, তার শ্রবণশক্তি ভাল ছিল না।[16]

আছরের ছালাতের সঠিক সময় :

কোন বস্ত্তর ছায়া যখন মূল ছায়ার সমপরিমাণ হবে তখন আছরের ছালাতের সময় শুরু হবে। আর দ্বিগুণ হলে শেষ হবে। তবে কোন সমস্যাজনিত কারণে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত পড়া যাবে।[17]

(أ) عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ  يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ حَيَّةٌ فَيَذْهَبُ الذَّاهِبُ إِلَى الْعَوَالِي فَيَأْتِيْهِمْ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ وَبَعْضُ الْعَوَالِىْ مِنْ الْمَدِيْنَةِ عَلَى أَرْبَعَةِ أَمْيَالٍ أَوْ نَحْوِهِ.

(ক) আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) আছরের ছালাত তখন পড়তেন, যখন সূর্য উঁচুতে উজ্জ্বল অবস্থায় থাকত। অতঃপর কেউ আওয়ালী বা উঁচু স্থানগুলোর দিকে যেত এবং পুনরায় তাদের নিকট ফিরে আসত, তখনও সূর্য উপরেই থাকত। আর আওয়ালীর কোন কোন স্থান মদ্বীনা হতে চার মাইল বা অনুরূপ দূরে অবস্থিত।[18]

عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ  صَلَّى الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ فِىْ حُجْرَتِهَا لَمْ يَظْهَرِ الْفَىْءُ مِنْ حُجْرَتِهَا.

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, যখন সূর্য তার ঘরের মধ্যে থাকত তখন রাসূল (ছাঃ) আছর পড়তেন। তখনো ছায়া ঘর থেকে বের হয়ে যায়নি।[19]

(ب) عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيْجٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا نُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ  الْعَصْرَ فَنَنْحَرُ جَزُوْرًا فَتُقْسَمُ عَشْرَ قِسَمٍ فَنَأْكُلُ لَحْمًا نَضِيْجًا قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ.

(খ) রাফে‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে আছরের ছালাত আদায় করতাম। অতঃপর একটি উট যবহে করতাম। তারপর তাকে দশ ভাগে ভাগ করতাম। অতঃপর সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বেই আমরা তার পাক করা গোশত খেতাম ।[20]

(ج) عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ فِىْ دَارِهِ بِالْبَصْرَةِ حِيْنَ انْصَرَفَ مِنَ الظُّهْرِ وَدَارُهُ بِجَنْبِ الْمَسْجِدِ فَلَمَّا دَخَلْنَا عَلَيْهِ قَالَ أَصَلَّيْتُمُ الْعَصْرَ فَقُلْنَا لَهُ إِنَّمَا انْصَرَفْنَا السَّاعَةَ مِنَ الظُّهْرِ قَالَ فَصَلُّوا الْعَصْرَ فَقُمْنَا فَصَلَّيْنَا فَلَمَّا انْصَرَفْنَا قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ  يَقُوْلُ تِلْكَ صَلاَةُ الْمُنَافِقِ يَجْلِسُ يَرْقُبُ الشَّمْسَ حَتَّى إِذَا كَانَتْ بَيْنَ قَرْنَىِ الشَّيْطَانِ قَامَ فَنَقَرَهَا أَرْبَعًا لاَ يَذْكُرُ اللهَ فِيْهَا إِلاَّ قَلِيْلاً.

(গ) আলা ইবনু আব্দুর রহমান বছরাতে একদিন যোহরের ছালাত আদায় করে ফেরার সময় আনাস ইবনু মালেক (রাঃ)-এর বাড়ীতে গেলেন। আর  মসজিদের পার্শ্বেই তার বাড়ী ছিল। রাবী বলেন, আমরা যখন তার কাছে গেলাম, তখন তিনি বললেন, তোমরা কি আছরের ছালাত আদায় করেছ? আমরা বললাম, এই মাত্র আমরা যোহরের ছালাত আদায় করে আসলাম। তিনি বললেন, তোমরা আছরের ছালাত আদায় করে নাও। অতঃপর আমরা চলে গেলাম এবং ছালাত আদায় করলাম। আমরা যখন ফিরে আসলাম তখন তিনি বললেন, এটা হল মুনাফিকের ছালাত। সে বসে বসে অপেক্ষায় থাকে। যখন সূর্য লাল হতে থাকে এমনকি শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝে যায়, তখন সে দাঁড়ায় এবং চারটি ঠোকর মারে। সে আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে।[21]

(د) عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ  أَمَّنِىْ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ عِنْدَ الْبَيْتِ مَرَّتَيْنِ فَصَلَّى بِىَ الظُّهْرَ حِيْنَ زَالَتِ الشَّمْسُ وَكَانَتْ قَدْرَ الشِّرَاكِ وَصَلَّى بِىَ الْعَصْرَ حِيْنَ كَانَ ظِلُّهُ مِثْلَهُ وَصَلَّى بِىَ يَعْنِى الْمَغْرِبَ حِيْنَ أَفْطَرَ الصَّائِمُ وَصَلَّى بِىَ الْعِشَاءَ حِيْنَ غَابَ الشَّفَقُ وَصَلَّى بِىَ الْفَجْرَ حِيْنَ حَرُمَ الطَّعَامُ وَالشَّرَابُ عَلَى الصَّائِمِ فَلَمَّا كَانَ الْغَدُ صَلَّى بِىَ الظُّهْرَ حِيْنَ كَانَ ظِلُّهُ مِثْلَهُ وَصَلَّى بِىَ الْعَصْرَ حِيْنَ كَانَ ظِلُّهُ مِثْلَيْهِ وَصَلَّى بِىَ الْمَغْرِبَ حِيْنَ أَفْطَرَ الصَّائِمُ وَصَلَّى بِىَ الْعِشَاءَ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ وَصَلَّى بِىَ الْفَجْرَ فَأَسْفَرَ ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَىَّ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ هَذَا وَقْتُ الأَنْبِيَاءِ مِنْ قَبْلِكَ وَالْوَقْتُ مَا بَيْنَ هَذَيْنِ الْوَقْتَيْنِ.

(ঘ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, জিবরীল (আঃ) কা‘বার নিকট দুইবার আমার ইমামতি করেছেন। একবার তিনি আমাকে যোহর পড়ালেন যখন সূর্য ঢুলে পড়ল। আর তা ছিল জুতার দোয়ালির পরিমাণ। আছর পড়ালেন, যখন প্রত্যেক বস্ত্তর ছায়া তার একগুণ হল। মাগরিব পড়ালেন যখন ছায়েম ইফতার করে। আর এশা পড়ালেন যখন লালিমা দূর হল। ফজর পড়ালেন যখন ছায়েম ব্যক্তির উপর খানাপিনা হারাম হয় (সাহারীর সময়ের পর)।

পরের দিন তিনি আমাকে যোহর পড়ালেন, যখন প্রত্যেক বস্ত্তর ছায়া তার একগুণ হল। আর আছর পড়ালেন যখন প্রত্যেক বস্ত্তর ছায়া তার দ্বিগুণ হল। মাগরিব পড়ালেন যখন ছায়েম ব্যক্তি ইফতার করে। এশা পড়ালেন যখন রাত্রের এক-তৃতীয়াংশ পূর্ণ হল। অবশেষে ফজর পড়ালেন এবং খুব ফর্সা করে ফেললেন। অতঃপর তিনি আমার প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, হে মুহাম্মাদ (ছাঃ)! ইহা আপনার পূর্বের নবীগণের সময়। ছালাতের সময় আসলে এই দুই সময়ের মাঝের সময়’।[22] অন্য হাদীছে এসেছে, সর্বোত্তম আমল হল, আউয়াল ওয়াক্তে ছালাত আদায় করা।[23]

জ্ঞাতব্য : জিবরীল (আঃ)-এর মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা রাসূল (ছাঃ)-কে ছালাতের আউয়াল ও আখের দুইটি ওয়াক্ত সম্পর্কে জানিয়েছেন। এর দ্বারা প্রমাণিত হল যে, বস্ত্তর ছায়া তার দ্বিগুণ হলে আছরের ছালাতের শেষ ওয়াক্ত চলে আসে। অথচ অধিকাংশ মুছল্লী এই শেষ ওয়াক্তে আছরের ছালাত আদায় করে থাকে, যা রাসূল (ছাঃ)-এর ভাষায় গর্হিত অন্যায়।

সুধী পাঠক! উপরে ত্রুটিপূর্ণ হাদীছ এবং ছহীহ হাদীছ দুই ধরনের হাদীছই পেশ করা হল। নিঃসন্দেহে মুছল্লীর সামনে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, আছর ছালাত সে কোন্ ওয়াক্তে আদায় করবে। বিশেষ করে ছাহাবায়ে কেরাম বিভিন্ন উদাহরণ, পদ্ধতি ও জায়গা উল্লেখ করে আছরের ছালাতের সময়টা বুঝানোর চেষ্টা করেছেন। অথচ কতিপয় যঈফ ও জাল হাদীছের কারণে উক্ত গুরুত্ব মূল্যহীন হয়ে গেছে। এরপরও যদি সে রাসূল (ছাঃ)-এর আদর্শকে গ্রহণ না করে, তবে কবরে ও ক্বিয়ামতের মাঠে টিকতে পারবে কি? মনে রাখা আবশ্যক যে, রাসূল (ছাঃ)-এর আগমনের পর পূর্বের কোন নবী-রাসূলের আনুগত্য করলেও সে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের উপস্থিতিতে যদি পূর্বে কোন নাযিলকৃত কিতাবের অনুসরণ করা হয় তবুও সে রাসূল (ছাঃ)-এর উম্মত থেকে বেরিয়ে যাবে।[24] অতএব পীর-ফকীর, ইমাম-খতীব এবং তাদের রচিত মনগড়া কল্পিত ধর্মের অনুসরণ করলে পরিণাম ভয়াবহ হবে।

[1]. দারাকুৎনী হা/১০০৩, ১/২৫১; ত্বাবারাণী কবীর ৪/২৬৭; । [2]. তুহফাতুল আহওয়াযী ১/৪২০ পৃঃ, হা/১৫৯; তানক্বীহ, পৃঃ ২৬৫। [3]. দারাকুৎনী ১/২৫১ পৃঃ عبد الله بن رافع بن خديج بن رافع هذا ليس بقوي। [4].هذا حديث ضعيف الإسناد.. ولايصح هذا الحديث عن رافع ولا عن غيره من الصحابة..। -তানকীহুল কালাম, পৃঃ ২৬৫। [5]. মালেক হা/৯; মিশকাত হা/৫৮৫, পৃঃ ৫৯; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৩৮, ২/১৭১ পৃঃ। [6]. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, বুখারী হা/৫৫০, ১/৭৮ পৃঃ, (ইফাবা হা/৫২৪, ২/১৬ পৃঃ); মিশকাত হা/৫৯২, পৃঃ ৬০; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৪৪, ২/১৭৪ পৃঃ, ‘জলদি ছালাত আদায় করা’ অনুচ্ছেদ। [7]. তাহক্বীক্ব মিশকাত হা/৫৮৫, ১/১৮৬ পৃঃ। [8]. দারাকুৎনী ১/২৫১; হাকেম হা/৬৯০, ১/১৯২। [9]. তানকীহুল কালাম, পৃঃ ২৬৬। [10]. زِيَادُ بْنُ عَبْدِ اللهِ النَّخَعِىُّ مَجْهُوْلٌ لَمْ يَرْوِ عَنْهُ غَيْرُ الْعَبَّاسِ بْنِ ذَرِيحٍ দারাকুৎনী ১/২৫১। [11]. আব্দুর রাযযাক হা/২০৮৯; ত্বাবারাণী কাবীর ৯/২৯৬। [12]. তানকীহুল কালাম, পৃঃ ২৬৬; তুহফাতুল আহওয়াযী ১/৪১৮ পৃঃ, হা/১৫৯। [13]. আবুদাঊদ হা/৪০৮, ১/৫৯ পৃঃ। [14]. যঈফ আবুদাঊদ হা/৪০৮। [15]. আবুদাঊদ হা/৪১৫, ১/৬০ পৃঃ। [16]. যঈফ আবুদাঊদ হা/৬৪। [17]. ছহীহ বুখারী হা/৫৫৬, ১/৭৯ পৃঃ ও হা/৫৭৯; মুসলিম হা/১৪০৪; মিশকাত হা/৬০১। [18]. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, বুখারী হা/৫৫০, ১/৭৮ পৃঃ, (ইফাবা হা/৫২৪, ২/১৬ পৃঃ); মিশকাত হা/৫৯২, পৃঃ ৬০; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৪৪, ২/১৭৪ পৃঃ, ‘জলদি ছালাত আদায় করা’ অনুচ্ছেদ। [19]. বুখারী হা/৫৪৫, ১/৭৮ পৃঃ, (ইফাবা হা/৫১৮, ২/১৩ পৃঃ)। [20]. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, ছহীহ বুখারী হা/২৪৮৫, ১/৩৩৮ পৃঃ; ছহীহ মুসলিম হা/১৪৪৬, ১/২২৫ পৃঃ (ইফাবা হা/১২৮৯); মিশকাত হা/৬১৫; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৬৬। [21]. ছহীহ মুসলিম হা/১৪৪৩, ১/২২৫ পৃঃ, (ইফাবা হা/১২৮৬) ‘মসজিদ সমূহ’ অধ্যায়-৬, ‘জলদি করে আছর পড়া’ অনুচ্ছেদ-৩৫; মিশকাত হা/৫৯৩, পৃঃ ৬০; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৪৫, ২/১৭৫ পৃঃ। [22]. ছহীহ আবুদাঊদ হা/৩৯৩, ১/৫৬ পৃঃ, ‘ছালাত’ অধ্যায়-২, ‘ওয়াক্ত সমূহ’ অনুচ্ছেদ-২; ছহীহ তিরমিযী হা/১৪৯, ১/৩৮ পৃঃ; মিশকাত হা/৫৮৩; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৩৬, ২/১৬৯ পৃঃ। [23]. ছহীহ আবুদাঊদ হা/৪২৬, ১/৬১ পৃঃ; তিরমিযী হা/১৭০, ১/৪২ পৃঃ; সনদ ছহীহ; মিশকাত হা/৬০৭; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৫৯, ২/১৭৯ পৃঃ। [24]. আহমাদ হা/১৫১৯৫; বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/১৭৪; সনদ হাসান, মিশকাত হা/১৭৭ ও ১৯৪, পৃঃ ৩০ ও ৩২, ‘কিতাব ও সুন্নাহকে অাঁকড়ে ধরা’ অনুচ্ছেদ; ইরওয়াউল গালীল হা/১৫৮৯, ৬/৩৪ পৃঃ।

Posted from ইসলামী সাইট

This entry was posted in 05. ছালাতের সময়, আছরের ছালাতের ওয়াক্ত. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s