(৫) এশার ওয়াক্ত

(৫) এশার ওয়াক্ত :

ফিক্বহী গ্রন্থ সমূহে এশার ছালাতের সময় সম্পর্কেও কিছু জাল ও যঈফ হাদীছ প্রচলিত আছে।

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ آخِرُ وَقْتِ الْعِشَاءِ حِيْنَ طَلَعَ الْفَجْرُ.

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) বলেন, এশার ছালাতের শেষ সময় হল ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত।[1]

তাহক্বীক্ব : যাকারিয়া বিন গোলাম কাদের এবং শায়খ আলবানী বলেন, এর কোন ভিত্তি নেই।[2] ‘হেদায়া’র ভাষ্যকার আল্লামা ইবনুল হুমাম বলেন, ছালাতের ওয়াক্ত সংক্রান্ত হাদীছের মধ্যে কোথাও এটা পাওয়া যায় না।[3] আল্লামা যায়লাঈ বলেন, গরীব বা ভিত্তিহীন।[4] ইবনু হাজার আসক্বালানীও অনুরূপ বলেছেন।[5] কিন্তু ইমাম তাহাবী মাযহাবী মোহে এর পক্ষে মত দিয়েছেন, যা কাম্য নয়।[6] মূলতঃ মধ্য রাত পর্যন্ত এশার ছালাতের সময় থাকে।[7] ফজর পর্যন্ত নয়।

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ  إِنَّ لِلصَّلَاةِ أَوَّلًا وَآخِرًا وَإِنَّ أَوَّلَ وَقْتِ صَلَاةِ الظُّهْرِ حِيْنَ تَزُوْلُ الشَّمْسُ وَآخِرَ وَقْتِهَا حِيْنَ يَدْخُلُ وَقْتُ الْعَصْرِ وَإِنَّ أَوَّلَ وَقْتِ صَلَاةِ الْعَصْرِ حِيْنَ يَدْخُلُ وَقْتُهَا وَإِنَّ آخِرَ وَقْتِهَا حِيْنَ تَصْفَرُّ الشَّمْسُ وَإِنَّ أَوَّلَ وَقْتِ الْمَغْرِبِ حِيْنَ تَغْرُبُ الشَّمْسُ وَإِنَّ آخِرَ وَقْتِهَا حِيْنَ يَغِيْبُ الْأُفُقُ وَإِنَّ أَوَّلَ وَقْتِ الْعِشَاءِ الْآخِرَةِ حِيْنَ يَغِيْبُ الْأُفُقُ وَإِنَّ آخِرَ وَقْتِهَا حِيْنَ يَنْتَصِفُ اللَّيْلُ وَإِنَّ أَوَّلَ وَقْتِ الْفَجْرِ حِيْنَ يَطْلُعُ الْفَجْرُ وَإِنَّ آخِرَ وَقْتِهَا حِيْنَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ.

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ছালাতের প্রথম ও শেষ সময় আছে। যোহরের প্রথম ওয়াক্ত হল, যখন সূর্য ঢুলে যাবে আর তার শেষ ওয়াক্ত হল, যখন আছরের ওয়াক্তে প্রবেশ করবে। আছরের প্রথম ওয়াক্ত হল, যখন উহা তার ওয়াক্তে প্রবেশ করবে। আর শেষ ওয়াক্ত হল যখন সূর্য হলুদ রং ধারণ করবে। মাগরিবের প্রথম ওয়াক্ত হল যখন সূর্য ডুবে যাবে। আর শেষ ওয়াক্ত হল যখন দিগন্তে লালিমা ডুবে যাবে। এশার প্রথম ওয়াক্ত হল যখন দিগন্তে লালিমা ডুবে যাবে আর এর শেষ সময় হল রাত্রির মধ্যভাগ। ফজরের প্রথম ওয়াক্ত হল, যখন ফজর উদিত হবে। আর শেষ সময় হল সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত।[8]

তাহক্বীক্ব : বর্ণনাটি যঈফ। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন,

سَمِعْت مُحَمَّدًا يَقُوْلُ حَدِيْثُ الْأَعْمَشِ عَنْ مُجَاهِدٍ فِي الْمَوَاقِيْتِ أَصَحُّ مِنْ حَدِيْثِ مُحَمَّدِ بْنِ فُضَيْلٍ عَنْ الْأَعْمَشِ وَحَدِيْثُ مُحَمَّدِ بْنِ فُضَيْلٍ خَطَأٌ أَخْطَأَ فِيْهِ مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ.

‘আমি মুহাম্মাদকে (ইমাম বুখারী) বলতে শুনেছি যে, ছালাতের সময়ের ব্যাপারে মুজাহিদ থেকে আ‘মাশের বর্ণিত হাদীছ মুহাম্মাদ বিন ফুযাইলের হাদীছের চেয়ে অধিকতর ছহীহ। মুহাম্মাদ বিন ফুযাইলের হাদীছ ভুল।  সে হাদীছ বর্ণনায় ভুল করেছে।[9]

এশার ছালাতের সঠিক সময় :

মাগরিবের ছালাতের সময়ের পর থেকে এশার ওয়াক্ত শুরু হয় এবং মধ্য রাত পর্যন্ত থাকে। সমাস্যজনিত কারণে ফজরের পূর্ব পর্যন্ত পড়া যাবে। তবে রাসূল (ছাঃ) এশার ছালাত দেরী করে পড়াকে উত্তম মনে করতেন। তাই মাগরিবের পরপরই এশার ছালাত পড়া উচিৎ নয়, যা এদেশে চালু আছে।

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ  قَالَ وَقْتُ الظُّهْرِ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ وَكَانَ ظِلُّ الرَّجُلِ كَطُوْلِهِ مَا لَمْ يَحْضُرِ الْعَصْرُ وَوَقْتُ الْعَصْرِ مَا لَمْ تَصْفَرَّ الشَّمْسُ وَوَقْتُ صَلاَةِ الْمَغْرِبِ مَا لَمْ يَغِبِ الشَّفَقُ وَوَقْتُ صَلاَةِ الْعِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ الأَوْسَطِ وَوَقْتُ صَلاَةِ الصُّبْحِ مِنْ طُلُوْعِ الْفَجْرِ مَا لَمْ تَطْلُعِ الشَّمْسُ فَإِذَا طَلَعَتِ الشَّمْسُ فَأَمْسِكْ عَنِ الصَّلاَةِ فَإِنَّهَا تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ.

আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, যখন সূর্য ঢুলে যায়, তখন যোহরের সময় শুরু হয়। কোন ব্যক্তির ছায়া তার দৈর্ঘ্যের সমপরিমাণ হওয়া পর্যন্ত উক্ত সময় থাকে। অর্থাৎ আছরের সময় উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত। আছরের সময় বস্ত্তর মূল ছায়ার সমপরিমাণ হওয়া থেকে সূর্য হলুদ হওয়া পর্যন্ত। মাগরিবের সময় (সূর্যাস্ত হতে) লালিমা দূর হওয়া পর্যন্ত। আর এশার সময় রাত্রির মধ্য ভাগ পর্যন্ত। আর ফজর ছালাতের সময় ঊষার উদয় হতে সূর্যোদয় পর্যন্ত। যখন সূর্য উঠবে, তখন ছালাত থেকে বিরত থাকবে। কারণ সূর্যোদয় হয় শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্য দিয়ে।[10]

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ أَعْتَمَ النَّبِىُّ  ذَاتَ لَيْلَةٍ حَتَّى ذَهَبَ عَامَّةُ اللَّيْلِ وَحَتَّى نَامَ أَهْلُ الْمَسْجِدِ ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى فَقَالَ إِنَّهُ لَوَقْتُهَا لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِىْ.

আয়েশা (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) একদা রাত্রির অর্ধেক পর্যন্ত ছালাত দেরী করলেন। এমনকি মসজিদের মুছল্লীরা তন্দ্রাচ্ছন্ন হল। অতঃপর তিনি বের হয়ে ছালাত আদায় করেন। তারপর বললেন, আমি যদি আমার উম্মতের উপর ভারী না মনে করতাম, তবে এই সময়টাই এশার ছালাতের সময় হত।[11]

[1]. নাছবুর রাইয়াহ ১/১৩৪। [2]. সিলসিলা যঈফাহ হা/৬৫৬১, ১৪/১৩৮ পৃঃ; তানক্বীহ, পৃঃ ২৬৭। [3]. ঐ, ফাৎহুল ক্বাদীর ১/১৯৬ পৃঃ। [4]. নাছবুর রাইয়াহ ১/২৩৪। [5]. আদ-দিরায়াহ ১/১০৩। [6]. তাহাবী হা/৮৫৯-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ; তুহফাতুল আহওয়াযী ১/৪৩০ পৃঃ। [7]. ছহীহ মুসলিম হা/১৪১৯, ১/২২২ পৃঃ; মিশকাত হা/৫৮১; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৩৪, ২/১৬৭ পৃঃ। [8]. তিরমিযী হা/১৫১, ১/৩৯ পৃঃ; আহমাদ ২/২৩২; তাহাবী ১/১৪৯-১৫০। [9]. তিরমিযী হা/১৫১, ১/৩৯ পৃঃ। [10]. ছহীহ মুসলিম হা/১৪১৯, ১/২২২, (ইফাবা হা/১২৬২); মিশকাত হা/৫৮১; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৩৪, ২/১৬৭ পৃঃ। [11]. ছহীহ মুসলিম হা/১৪৭৭, ১/২২৯ পৃঃ, (ইফাবা হা/১৩১৮)।

Posted from ইসলামী সাইট

Advertisements
This entry was posted in 05. ছালাতের সময়, এশার ওয়াক্ত. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s