ছহীহ হাদীছের আলোকে ‘ছালাতুল আউয়াবীন’

ছহীহ হাদীছের আলোকে ‘ছালাতুল আউয়াবীন’ :

হাদীছে একই ছালাতকে তিনটি নামে উল্লেখ করা হয়েছে। পূর্ব আকাশে সূর্য উঠার সাথে সাথে পড়লে তাকে ‘ছালাতুল ইশরাক্ব’, সূর্য একটু উপরে উঠার পর আদায় করলে ‘ছালাতুয যোহা’ এবং আরো একটু উপরে উঠার পর আদায় করলে তাকে ‘ছালাতুল আউয়াবীন’ বা ‘আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনশীল বান্দাদের ছালাত’ বলা হয়েছে। যেকোন একটি পড়লেই চলবে। যেমন-

(أ) عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ  مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِىْ جَمَاعَةٍ ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ  تَامَّةٍ تَامَّةٍ تَامَّةٍ.

(ক) আনাস ইবনু মালেক (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি জামা‘আতের সাথে ফজর ছালাত আদায় করবে অতঃপর সূর্য উঠা পর্যন্ত বসে বসে যিকির করবে; তারপর দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করবে, তার জন্য পূর্ণ একটি হজ্জ এবং পূর্ণ একটি ওমরার নেকী রয়েছে।[1] অন্য হাদীছে এসেছে,

(ب) عَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ  يَقُوْلُ  فِى الإِنْسَانِ ثَلاَثُمِائَةٍ وَسِتُّوْنَ مَفْصِلاً فَعَلَيْهِ أَنْ يَتَصَدَّقَ عَنْ كُلِّ مَفْصِلٍ مِنْهُ بِصَدَقَةٍ قَالُوْا وَمَنْ يُطِيْقُ ذَلِكَ يَا نَبِىَّ اللهِ قَالَ النُّخَاعَةُ فِى الْمَسْجِدِ تَدْفِنُهَا وَالشَّىْءُ تُنَحِّيْهِ عَنِ الطَّرِيْقِ فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فَرَكْعَتَا الضُّحَى تُجْزِئُكَ.

(খ) বুরায়দা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, মানুষের দেহে তিনশ’ ষাটটি গ্রন্থি রয়েছে। তাই প্রত্যেক গ্রন্থির বিনিময়ে ছাদাক্বাহ করা উচিৎ। ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! কার পক্ষে এটা সম্ভব?  তিনি বললেন, মসজিদ থেকে থুথু মুছে দিবে এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্ত্ত সরিয়ে দিবে। এটা না পারলে চাশতের দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করবে।[2]

(ج) عَنْ زَيْدَ بْنِ أَرْقَمَ أَنَّهُ رَأَى قَوْمًا يُصَلُّوْنَ مِنَ الضُّحَى فَقَالَ أَمَا لَقَدْ عَلِمُوْا أَنَّ الصَّلاَةَ فِىْ غَيْرِ هَذِهِ السَّاعَةِ أَفْضَلُ إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ  قَالَ صَلاَةُ الأَوَّابِيْنَ حِيْنَ تَرْمَضُ الْفِصَالُ.

(গ) যায়েদ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি কিছু লোককে চাশতের ছালাত আদায় করতে দেখেন। অতঃপর বলেন, তারা অবগত আছে যে, এই সময়ের চেয়ে অন্য সময়ে পড়া অধিক উত্তম। নিশ্চয় রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘ছালাতুল আউয়াবীন’ তখন পড়বে, যখন উটের বাচ্চা রৌদ্রে তাপ অনুভব করে।[3]

অতএব মাগরিবের পর ছালাতুল আউয়াবীন নামে কোন ছালাত নেই। তাই উক্ত তিন সময়ের মধ্যে যেকোন এক সময়ে উক্ত ছালাত আদায় করলেই যথেষ্ট হবে। কিন্তু সূর্য উঠার পর পরই পড়লে ফযীলত অনেক বেশী। সুতরাং জাল ও যঈফ হাদীছ পরিত্যাগ করে ছহীহ হাদীছের দিকে ফিরে যাওয়াই একজন মুছল্লীর কর্তব্য।

জ্ঞাতব্য : ‘ছালাতুল আউয়াবীন’-এর রাক‘আত সংখ্যা সর্বনিম্ন দুই ও সর্বোচ্চ আট।[4] ১২ রাক‘আত পড়ার যে হাদীছ রয়েছে তা যঈফ।[5] এর সনদে মূসা ইবনু ফুলান ইবনু আনাস নামে অপরিচিত রাবী আছে।[6]

[1]. তিরমিযী হা/৫৮৬, ১/১৩০ পৃঃ; মিশকাত হা/৯৭১, পৃঃ ৮৯; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৯০৯, ৩/৬ পৃঃ, ‘ছালাতের পর যিকির’ অনুচ্ছেদ। [2]. আবুদাঊদ হা/৫২৪২, ২/৭১১ পৃঃ; মিশকাত হা/১৩১৫, পৃঃ ১১৬, সনদ ছহীহ; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১২৩৯, ৩/১৫৭ পৃঃ। [3]. ছহীহ মুসলিম হা/১৭৮০ ও ১৭৮১, ১/২৫৭ পৃঃ, (ইফাবা হা/১৬১৬), ‘মুসাফিরের ছালাত’ অনুচ্ছেদ-১৯; মিশকাত হা/১৩১২, পৃঃ ১১৬; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১২৩৭, ৩/১৫৬ পৃঃ। [4]. বুখারী হা/১১৭৬, ১/১৫৭ পৃঃ, (ইফাবা হা/১১০৬, ২/৩২১ পৃঃ), ‘তাহাজ্জুদ’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৩১; মুসলিম হা/১৭০৪; মিশকাত হা/১৩১১, ১৩০৯, পৃঃ ১১৫ ও ১১৬; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১২৩৪ ও ১২৩৬, ৩/১৫৫-৫৬ পৃঃ। [5]. ইবনু মাজাহ হা/১৩৮০, পৃঃ ৯৮; তিরমিযী হা/৪৭৩; মিশকাত হা/১৩১৬, পৃঃ ১১৬। [6]. আলবানী, মিশকাত হা/১৩১৬-এর টীকা দ্রঃ, ১/৪১৩ পৃঃ।

Posted from ইসলামী সাইট

Advertisements
This entry was posted in 11. সুন্নাত সালাত সমূহ, ছহীহ হাদীছের আলোকে ‘ছালাতুল আউয়াবীন’. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s