(৪) কুনূত পড়ার পর মুখে হাত মাসাহ করা

(৪) কুনূত পড়ার পর মুখে হাত মাসাহ করা :

বিতর ছালাতে কুনূত পড়ার পর মুখে হাত মাসাহ করার কোন ছহীহ হাদীছ নেই। উক্ত মর্মে যে বর্ণনাগুলো এসেছে সেগুলো সবই যঈফ।

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ  قَالَ لاَ تَسْتُرُوا الْجُدُرَ مَنْ نَظَرَ فِىْ كِتَابِ أَخِيْهِ بِغَيْرِ إِذْنِهِ فَإِنَّمَا يَنْظُرُ فِى النَّارِ سَلُوا اللهَ بِبُطُوْنِ أَكُفِّكُمْ وَلاَ تَسْأَلُوْهُ بِظُهُوْرِهَا فَإِذَا فَرَغْتُمْ فَامْسَحُوْا بِهَا وُجُوْهَكُمْ.

আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তোমরা দেওয়ালকে পর্দা দ্বারা আবৃত কর না। যে ব্যক্তি অনুমতি ব্যতীত তার ভাইয়ের চিঠির প্রতি লক্ষ্য করবে সে (জাহান্নামের) আগুনের দিকে লক্ষ্য করবে। তোমরা তোমাদের হাতের পেট দ্বারা আল্লাহর কাছে চাও, পিঠ দ্বারা চেও না। আর যখন দু‘আ শেষ করবে তখন তোমরা তোমাদের মুখমন্ডল মাসাহ করবে’।[1]

৬৮

তাহক্বীক্ব : বর্ণনাটি যঈফ। এর সনদে আব্দুল মালেক ও ইবনু হিসান নামে দুইজন দুর্বল রাবী রয়েছে।[2] স্বয়ং ইমাম আবুদাঊদ উক্ত হাদীছ উল্লেখ করে মন্তব্য করেন, ‘এই হাদীছ অন্য সূত্রেও মুহাম্মাদ ইবনু কা‘ব থেকে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এর প্রত্যেক সূত্রই দুর্বল। এটিও সেগুলোর মত। তাই এটাও যঈফ’।[3] উল্লেখ্য যে, উক্ত মর্মে আরো কয়েকটি বর্ণনা আছে সবই যঈফ।[4]

ইমাম মালেক (রহঃ)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি একে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, আমি এ সম্পর্কে কিছু জানি না। আব্দুল্লাহ বিন মুবারক, সুফিয়ান (রহঃ) থেকেও অনুরূপ বক্তব্য এসেছে।

ইমাম আবুদাঊদ (রহঃ) মুখে হাত মাসাহ করা সংক্রান্ত হাদীছ উল্লেখ করে বলেন, ‘এই হাদীছ অন্য সূত্রেও মুহাম্মাদ ইবনু কা‘ব থেকে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকটিই সীমাহীন দুর্বল। এই সূত্রও সেগুলোর মত। তাই এটাও যঈফ’।[5] অন্যত্র তিনি বলেন, ইমাম আহমাদ (রহঃ)-কে বিতরের দু‘আ শেষ করে মুখে দু’হাত মাসাহ করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু শুনিনি।[6] ইমাম বায়হাক্বী (রহঃ) বলেন, ‘এটা এমন একটি আমল যা ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয়; আছার দ্বারাও সাব্যস্ত হয়নি এবং ক্বিয়াস দ্বারাও প্রমাণিত হয়নি। সুতরাং উত্তম হল, এটা না করা’।[7] ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন,

وَأَمَّا رَفَعَ النَّبِىُّ  يَدَيْهِ فِى الدُّعَاءِ فَقَدْ جَاءَ فِيْهِ أَحَادِيْثٌ كَثِيْرَةٌ صَحِيْحَةٌ وَأَمَّا مَسَحَهُ وَجْهَهُ بِيَدَيْهِ فَلَيْسَ عَنْهُ فِيْهِ إِلَّا حَدِيْثٌ أَوْ حَدِيْثَانِ لَايَقُوْمُ بِهَا حُجُّةٌ.

‘দু‘আয় রাসূল (ছাঃ) দুই হাত তুলেছেন মর্মে অনেক ছহীহ হাদীছ এসেছে। কিন্তু তিনি দুই হাত দ্বারা তার মুখ মাসাহ করেছেন মর্মে একটি বা দু’টি হাদীছ ছাড়া কোন বর্ণনা নেই। যার দ্বারা দলীল সাব্যস্ত করা যায় না’।[8] শায়খ আলবানী (রহঃ) এ সংক্রান্ত হাদীছগুলো পর্যালোচনা শেষে বলেন, ‘দু‘আর পর মুখে দু’হাত মাসাহ করা সম্পর্কে কোন ছহীহ হাদীছ নেই’।[9]

[1]. আবুদাঊদ, পৃঃ ২০৯, হা/১৪৮৫; আলবানী, ইরওয়াউল গালীল, ২/১৮০, হা/৪৩৪; মিশকাত হা/২২৪৩, পৃঃ ১৯৫ (আংশিক)। [2]. যঈফ আবুদাঊদ, পৃঃ ১১২, হা/১৪৮৫; ইরওয়া ২/১৮০ পৃঃ। [3]. আবুদাঊদ হা/১৪৮৫, পৃঃ ২০৯। [4]. আবুদাঊদ হা/১৪৯২, পৃঃ ২০৯; ইবনু মাজাহ, পৃঃ ৮৩, হা/১১৯৩ ও ৩৯৩৫; তাবারাণী, হাকেম ১/৫৩৬; তিরমিযী, ২/১৭৬ পৃঃ, হা/৩৩৮৬। [5]. رُوِىَ هَذَا الْحَدِيْثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ كُلُّهَا وَاهِيَةٌ وَهَذَا الطَّرِيْقُ أَمْثَالًُهَا وَهُوَ ضَعِيْفٌ أَيْضًا -আবুদাঊদ হা/১৪৮৫, পৃঃ ২০৯। [6]. سَمِعْتُ أَحْمَدَ وَسُئِلَ عَنِ الرَّجُلِ يَمْسَحُ وَجْهَهُ بِيَدَيْهِ إِذَا فَرَغَ فِى الْوِتْرِ؟ فَقَالَ لَمْ أَسْمَعْ فِيْهِ شَيْئًا -আলবানী, ইরওয়াউল গালীল ২/১৭৯-৮২। [7]. فَهُوَ عَمَلٌ لَمْ يَثْبُتْ بِخَبَرٍ صَحِيْحٍ وَلَا أَثَرٍ ثَابِتٍ وَلَاقِيَاسٍ فَالْأَوْلَى أَنْ لَّايَفْعَلَهُ -আলবানী, ইরওয়াউল গালীল ২/১৭৯-৮২, হা/৪৩৪-এর আলোচনা দ্রঃ। [8]. মাজমূউ ফাতাওয়া ২২ খন্ড, পৃঃ ৫১৯। [9]. وَلَايَصِحُّ حَدِيْثٌ فِىْ مَسْحِ الْوَجْهِ بِالْيَدَيْنِ بَعْدَ الدُّعَاءِ -আলবানী, মিশকাত হা/২২৫৫ -এর টীকা দ্রঃ, ‘দু‘আ সমূহ’ অধ্যায়।

Posted from ইসলামী সাইট

This entry was posted in 12. বিতর সালাত, কুনূত পড়ার পর মুখে হাত মাসাহ করা. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s